নীড় ছোট, ক্ষতি নেই

পথিকের পথ ছিল, গন্তব্য ছিল, ট্রেনের দীর্ঘ হুইসেলে ‘সব ছেড়ে চল দূরে কোথাও যাই’ ডাক ছিল, মন উদাসিন সুদুরের হাতছানি ছিল, উদার সমুদ্রের আহ্বান ছিল। উৎসবের ভিরে মিশে যাওয়ার অনাবিল আনন্দ ছিল, ট্রেন বাসের সহযাত্রীর প্রতি বিশ্বাস ছিল। বিশ্ব জুড়ে ‘দিবে আর দিবে মিলাবে মিলিবে’ র উদারতা ছিল মনে।

সব যেন এক নিমেষের মধ্যে এক ফুঁয়ে উবে যেতে সুরু করল। পৃথিবীটা কেমন যেন ধীরে ধীরে সংকুচিত হতে সুরু করে দিল। সংকুচিত হতে হতে চার দেওয়ালের মধ্যে এসে বন্দী হতে সুরু করল। কার জন্যে হল, কে দায়ী কেউ জানে না, জানার দরকারও নেই।

ঘরের দরজা যেমন বন্ধ হল, হয়তো বা মানুষের হৃদয়ের দরজাও বন্ধ হয়ে গেল – অন্তত বেশ কয়েক বছরের জন্য তো বন্ধ হয়েই গেল। হয়তো বা মানুষ আর মানুষকে মানুষ বলে জানতে চাইবে না। পৃথিবীটা কেমন যেন বদলাতে শুরু করে দিল।

অনেকে মেঘের আড়ালে সূর্যের উপস্থিতির কথা বলে, বলে সিলভার লাইনিং এর কথা – হয়তো বা এই ভাইরাস চলে যাবে, ওষুধ আবিস্কার হবে, মানুষ আবার তার দৈনন্দিন জীবনে ফিরে আসবে। কিন্তু, মানুষের প্রতি মানুষের যে এক বিশ্বাস ছিল, সে যে ভঙ্গ হয়ে গেল, তা কি সহজে ফিরে আসবে? সেই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার ওষুধ তো কোন ল্যাবে তৈরি হবে জানা নেই।

তবে, সবই হয়তো আবার নতুন করে গঠন হবে। চিন্তা ধারা নতুন হবে, চলমান হবে, পৃথিবী আবার এক নতুন জীবন পাবে। অন্যরকম জীবন পাবে।

Posted in Uncategorized | Tagged , | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান