শারদোৎসব – পুজোর লেখা – দুই

[সালটা ছিল বাহাত্তর। শিলচর আকাশবাণী কেন্দ্রের শুরুর দিনগুলোর কথা। সেই সময়ে মফঃস্বল শহর শিলচরের বিনোদন বলতে ছিল রেডিও, নাটক, যাত্রা, সাহিত্য, কবিতা আর গল্প। শরৎ কালে এই মফঃস্বল শহরের প্রকৃতি ও মানুষ মেতে উঠত আগমনীর সুরে। সেই সময়ে শারদোৎসব উপলক্ষে রেডিওতে যে অনুষ্ঠান গুলো হতো, তার এক স্ক্রিপ্ট আমার হাতে আসে। লিখেছিলেন – সৌমেন্দ্রনাথ চৌধুরী। বাহাত্তরের শারদোৎসবের সেই সময় যেন উঠে এসেছে এই স্ক্রিপ্টে। তাই শারদোৎসব উপলক্ষে একটু স্মৃতি চারণ করি, সেই দিনের রেডিওর অনুষ্ঠানের স্ক্রিপ্টটি সবার সঙ্গে শেয়ার করি ] 

Pujor lekha -1.JPG

#আজ সারা জগতে মানুষ এক নতুন মন নিয়ে জাগছে। [বাহাত্তরে লেখা] পৃথিবী ছেড়ে মানুষ চন্দ্রে গিয়ে পদক্ষেপ করছে- আজ তাঁদের সামনে অসমম্ভবের বাঁধা একে একে মাথা নত করে, এগিয়ে যাওয়ার পথ করে দিচ্ছে। নবজাগরিত গরুড়ের মত মানুষ, দুঃসাহসের অধিকারী হয়ে রক্তসূর্য ধরার জন্যে যাত্রা করে। এই দুঃসাহস হিংসার দ্বারা অর্জিত হয় না। এর জন্যে প্রয়োজন – ভালোবাসা এবং নিজের ক্ষুদ্রতা ও নীচতা থেকে মুক্তি।

প্রদীপ যেমন আপন মৃতপাত্রে যতদিন সীমাবদ্ধ, ততদিন সে সুখেই থাকে। যে মুহূর্তে সে আলো দিয়ে আপনাকে দূর, বহু দূরে ব্যপ্ত করতে চায়, তখন থেকে তাঁকে আপন সকল সঞ্চয় একটু একটু করে ক্ষয় করে পদে পদে জ্বলে মরতে হয়। অথচ, এই ব্যপ্তি ছাড়া তার সার্থকতা নেই।

শরতে এই যে নদী ভরে উঠল ফুলে ফুলে, এই যে ক্ষেত ভরে উঠল শস্যের ভারে – এর মধ্যে একটা ভাব আছে। সে এই যে, প্রকৃতি আপনার ভিতরে যে অমৃতশক্তি পেয়েছে, সেটাকে বাইরে নানা রূপে, নানা ভাবে, নানা রসে শোধ করছে। সেই শোধ করাটাই প্রকাশ। আর এই প্রকাশই সৌন্দর্য।

# শরৎ সময়টা ছুটির। রাজা ছুটি নেয় রাজত্ব থেকে, ছেলেরা ছুটি নিয়েছে পাঠশালা থেকে, তাঁদের আর কোন উদ্দেশ্য নেই। কেবল – বিনা কাজে বাজিয়ে বাঁশি কাটবে সকল বেলা।

‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকে প্রতাপ যখন বললেন – বৈরাগী আমার এক একবার মনে হয় তোমার ঐ রাস্তাটাই ভালো- আমার এই রাজ্যটা কিছু না।

বৈরাগী বলে – মহারাজ, রাজ্যটাও তো রাস্তা। চলতে পারলেই হল। ওটাকে যে পথ বলে জানে, সেই তো পথিক; আমরা কোথায় লাগি?

সংসারে যে কোন কাজেই দায় না রেখে, আনন্দ পাবার চেষ্টা করার কথা বৈরাগী বলছে।

শরৎ কালে মেঘ যে হালকা, তার কোন প্রয়োজন নেই, শিউলি ফুলের মধ্যে যেন কোন আসক্তি নেই – যেমন সে ফোটে তেমনি সে ঝরে পড়ে। কাশের স্তবক না কাশের, না বাগানের, না বনের। শরতে কাঁচা ধানের ক্ষেতে কেবল আছে তার রঙ, আছে তার দোলা। আর কোন দায় যদি তার থাকে – সে কথা সে একবারে লুকিয়েছে। তার সব কিছুতেই আছে ছুটির খুশি। প্রকাশ করার আনন্দ। ভালো থাকার নিমন্ত্রণ, শুভেচ্ছা।

     ************************************   শেষ   *****************************

Advertisements

About abakprithibi

I see skies of blue and clouds of white, The bright blessed day, the dark sacred night And I think to myself what a wonderful world...........
This entry was posted in Uncategorized and tagged , , . Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s